পিতাপুত্র চারজন মিলে ‘পাগলকে’ লাঠিপেটা, কারাগারে একজন 

পিতাপুত্র চারজন মিলে ‘পাগলকে’ লাঠিপেটা, কারাগারে একজন 
পিতাপুত্র চারজন মিলে ‘পাগলকে’ লাঠিপেটা, কারাগারে একজন 

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় গায়ে ধাক্কা লাগার জেরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক লোককে (পাগল) লাঠিপেটার মামলায় পিতাপুত্র চারজনের একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

বকুল মিয়া নামে ওই আসামী গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন চাইলে বিচারক কামরুল হাসান তা নামঞ্জুর করেন এবং তাকে জেলা কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। 

‘পাগল’ পেটানোর মামলার অন্য তিন আসামী হলেন— কারাগারে যাওয়া বকুলের পিতা ও চুনারুঘাট উপজেলার আসামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মোতালিব, তার অপর দুই ছেলে মকুল মিয়া ও শেকুল মিয়া। 

দৈনিক মানবজমিনের চুনারুঘাট উপজেলা প্রতিনিধি নুরুল আমীন গত ১৬ মার্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে পিতাপুত্র চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করলে বিচারক তাদের নামে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারীর আদেশ দেন। 

এর আগে গত ১৩ মার্চ গাজীপুর ইউনিয়নের আসামপাড়া বাজরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে চারজন মিলে বেধড়ক লাঠিপেটা করেন। পরে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা, কাপড়চোপর ও খাবার দেয়। 

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নূর আলম  খোয়াইকে জানান, আসামপাড়া বাজারের বাসিন্দা মাস্টার আব্দুল মোতালিবের সঙ্গে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তির গায়ে ধাক্কা লাগে। এতে মোতালিব মাটিতে পড়ে যান। পরে মোতালিব ও তার ছেলে ব্যবসায়ী বকুল মিয়া, মুকুল মিয়া ও শেকুল মিয়া মিলে তাকে বেধড়ক লাঠিপেটা করেন। 

মারধরে আহত ব্যক্তির চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মারধর করা কাউকে পায়নি। তবে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে।